
বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে ঢাকার বাতাসের মান ছিল ‘অস্বাস্থ্যকর’। এ সময় বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ।
আইকিউএয়ারের হালনাগাদ তথ্যমতে, রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ঢাকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর ছিল ১৭৮।
একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ২১১। ২০২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সিঙ্গাপুর। ভারতের দিল্লি ও মুম্বাই যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে ছিল। শহর দুটির একিউআই স্কোর ছিল যথাক্রমে ২০০ ও ১৯৮।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দূষিত শহরের তালিকার প্রথম ১০টি শহরের একিউআই স্কোর ছিল ১৬১ থেকে ২১১-এর মধ্যে। এই মাত্রার বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
একিউআই স্কোর কত হলে বাতাসের মান কেমন
বায়ুমান সূচক বা একিউআইয়ের মাধ্যমে বাতাসে দূষণের মাত্রা এবং এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝানো হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাসের মান ‘ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে তা ‘মাঝারি’।
সূচক ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আর স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়। এ মাত্রার দূষণ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির পর্যায়ে পড়ে।
বায়ুদূষণের এমন পরিস্থিতিতে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাঁদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বাইরে চলাফেরা যথাসম্ভব সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।



