
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের সাজা হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাঁকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয় বলে জানান তিনি।
শুক্রবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের মরদেহ গ্রহণ করেন তিনি।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন শাহেদ আহম্মদ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর মরদেহ বহনকারী বিমানটি ঢাকায় অবতরণ করে।
শামা ওবায়েদ জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে শাহেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। নিহত শাহেদ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর দুটি সন্তান রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর নিহত প্রবাসীদের মধ্যে শাহেদের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে ১১তম হিসেবে।
নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শাহেদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে সরকারি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিটি দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে। কারাবন্দিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে অনেক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ওই ঘটনাটি মূলত ২০২৩ সালের।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের মিশনগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
বিদেশে কর্মী নিয়োগের খরচ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের কারণে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন।



