অন্য খবর

বিকেল ৩টার পর শরীর নিস্তেজ লাগে কেন

দুপুরের খাবার খাওয়ার পরও দিনের কাজ শেষ হতে অনেকটা সময় বাকি থাকে। অথচ বিকেল ৩টার দিকে এসে শরীর ক্লান্ত লাগে, কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে আরেক কাপ কফি পান করেন। তবে বিকেলের এই ক্লান্তির পেছনে শুধু ব্যস্ততা নয়, ঘুম, খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরের পুষ্টি গ্রহণের মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে।

খাবার থেকে পাওয়া পুষ্টি শরীরের শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু খাবার খাওয়ার পরও যদি শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকভাবে শোষণ করতে না পারে, তাহলে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি অপর্যাপ্ত ঘুম, অনিয়মিত খাবার এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের বিভিন্ন অভ্যাসও শক্তি ও কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিকেলের ক্লান্তি কমাতে দৈনন্দিন রুটিনে কয়েকটি পরিবর্তন আনা যেতে পারে। তবে ক্লান্তি দূর করার সব পদ্ধতির কার্যকারিতার পক্ষে সমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই খাবার ও ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি সমস্যাটি নিয়মিত হলে এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

১. খেজুর ও ঘি খেতে পারেন

খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে। অন্যদিকে, ঘিতে থাকে চর্বি, যা শরীরের শক্তির একটি উৎস। তাই খেজুরের সঙ্গে অল্প পরিমাণ ঘি খেলে কিছুটা শক্তি পাওয়া যেতে পারে।

এ জন্য একটি খেজুরের সঙ্গে এক চা চামচ ঘি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এই মিশ্রণ বিকেলের ক্লান্তি দূর করে বা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ঠেকায়, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ঘি ক্যালরিসমৃদ্ধ হওয়ায় পরিমাণের দিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

বিকেলে ক্ষুধা লাগলে খেজুরের সঙ্গে বাদাম কিংবা দইয়ের মতো পুষ্টিকর খাবারও খাওয়া যেতে পারে। কোন খাবার আপনার জন্য উপযোগী, তা নির্ভর করবে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর।

২. জাফরান মেশানো দুধ পান করতে পারেন

জাফরান একটি সুগন্ধি ও দামি মসলা। মেজাজ ভালো রাখা ও মানসিক সুস্থতার ওপর জাফরানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু গবেষণা হয়েছে। তবে জাফরান মেশানো দুধ পান করলেই বিকেলের ক্লান্তি দূর হবে, এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

জাফরান মেশানো দুধ খেতে চাইলে এক থেকে দুটি জাফরানের আঁশ পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরে তা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন। চাইলে সকালে বা রাতে পান করা যায়। তবে এই নির্দিষ্ট পরিমাণ ও সময়ে জাফরান খেলে সতেজতা বাড়ে, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

দুধ প্রোটিনসহ কয়েকটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের উৎস হতে পারে। তবে যাঁদের দুধে অ্যালার্জি বা ল্যাকটোজ হজমে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের উপযোগী বিকল্প বেছে নেওয়া উচিত।

৩. রাতে অতিরিক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন

রাতের খাবারের পরপরই ঘুমাতে গেলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, অম্বল বা বুকজ্বালা হতে পারে। বিশেষ করে বেশি পরিমাণে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লে এসব সমস্যা বাড়তে পারে। এতে ঘুমের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব পরদিনের কর্মক্ষমতা ও সতেজতায় পড়তে পারে।

তাই ঘুমানোর অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, বিশেষ করে যাঁদের রাতে অম্বল বা বুকজ্বালার সমস্যা হয়। তবে সবার ক্ষেত্রে একই সময়ের ব্যবধান প্রয়োজন হয় না।

ঘুমানোর আগে ক্ষুধা লাগলে একেবারে না খেয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা খাবার খাওয়া যেতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

বিকেলের ক্লান্তি কমাতে আর কী করবেন?

বিকেলে ক্লান্ত লাগলে শুধু কফি বা বিশেষ কোনো খাবারের ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দিন। দুপুরের খাবারে শর্করা, প্রোটিন, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদানের ভারসাম্য রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে কাজ না করে মাঝেমধ্যে বিরতি নিয়ে হাঁটাচলা করুন। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না, সেটিও খেয়াল করুন।

তবে নিয়মিত বা অস্বাভাবিক মাত্রায় ক্লান্তি হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাবারের পরও ক্লান্তি না কমলে, কিংবা এর সঙ্গে মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক অবস্থার কারণেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button