বিমানবন্দরের পথে কেন বারবার ঝরছে প্রাণ!

গত বছরের ৬ আগস্ট। ওমানফেরত প্রবাসী বাহার উদ্দিনকে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরে নিয়ে যাওয়ার পথে ঘটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। এতে ওই প্রবাসীর মা, স্ত্রী, নানি ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ একই পরিবারের সাতজন নিহত হন। আহত হন আরও ছয়জন। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এর প্রায় এক বছর পর, চলতি বছরের ১৬ জুন আবারও ঘটে একই ধরনের আরেকটি দুর্ঘটনা। দুবাইপ্রবাসী লিটন মিয়াকে বিদায় জানাতে ঢাকার বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তাঁর মা ও স্ত্রী। আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, তাঁর বোনের অবস্থাও ছিল আশঙ্কাজনক।
শুধু এই দুটি ঘটনাই নয়। বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দরে যাওয়া কিংবা সেখান থেকে ফেরার পথে একজন, দুজন কিংবা একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির খবর সামনে এসেছে। এমনকি প্রবাসীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেও দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নজির রয়েছে।
প্রতিবারই এসব ঘটনা জনমনে শোকের পাশাপাশি নতুন একটি প্রশ্ন সামনে আনে—একজন প্রবাসীকে স্বাগত জানাতে কিংবা বিদায় দিতে পরিবারের এত সদস্যকে একসঙ্গে বিমানবন্দরে যেতে হবে কেন?
সচেতন মহলের মতে, দুর্ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও ঝুঁকি কমানোর সুযোগ রয়েছে। আবেগের বশে পরিবারের সবাই একসঙ্গে যাতায়াত না করলে অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো প্রাণহানির সংখ্যা কমানো সম্ভব।
বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত যাত্রীদের ব্যবস্থাপনা সহজ করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাও রয়েছে। একজন যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন বা দুজন সহযাত্রী বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে বাস্তবে এ নির্দেশনা কার্যকর করতে প্রায়ই বেগ পেতে হয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের। অনেক সময় যাত্রী ও স্বজনদের আবেগঘন অনুরোধ উপেক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে প্রায়ই দেখা যায়, পরিবারের ছোট-বড় সবাই দল বেঁধে বিমানবন্দরে আসছেন। শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যরাও উপস্থিত থাকেন প্রিয়জনকে স্বাগত জানাতে কিংবা বিদায় দিতে।
অন্যদিকে বিমানবন্দরে সঙ্গে আসা স্বজনদের জন্য পর্যাপ্ত ও নির্ধারিত অপেক্ষার জায়গা না থাকায় ভোগান্তির শিকার হন অনেকেই। কাউকে স্টিলের ব্যারিকেড ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, আবার কেউ রোদ কিংবা বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষা করেন।
এ পরিস্থিতিতে সচেতন নাগরিকদের পরামর্শ, খুব বেশি প্রয়োজন না হলে একজন বা দুজনের বেশি সদস্যের বিমানবন্দরে না যাওয়াই নিরাপদ। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে আসা স্বজনদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও আরামদায়ক অপেক্ষাগার তৈরির দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রবাসীদের সঙ্গে পরিবারের আবেগের সম্পর্ক অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার আনন্দ কিংবা আবারও দীর্ঘ বিচ্ছেদের আগে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর মুহূর্ত একটি পরিবারের জন্য গভীর আবেগের।
তবে সেই আবেগ যেন আর কোনো পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোকের কারণ না হয়—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
লেখা: সাইফুল ইসলাম | প্রকাশক, প্রবাস২৪



