শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে উত্তপ্ত মিরপুর, বন্ধ মেট্রোরেলের দুই স্টেশন!

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় বিক্ষোভরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির কারণে মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ স্টেশনে ট্রেন থামা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে মেট্রোরেলের মূল সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ স্টেশনে ট্রেন থামছে না। অন্য স্টেশনগুলোতে যাত্রী ওঠানামা স্বাভাবিক রয়েছে।
ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে স্টেশন দুটিতে ট্রেন থামানো বন্ধ করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশন দুটির সব প্রবেশপথও বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে এসব স্টেশনে কোনো যাত্রী প্রবেশ করতে পারছেন না এবং ট্রেন থেকে নামারও সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার কিছু পর পোশাকশ্রমিকেরা আবারও সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেতন বাড়ানোর দাবিতে তাঁরা সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।
আন্দোলনকারীরা মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত কাঠ ও বাঁশে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ওই এলাকার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে মেট্রোরেলের স্টেশন দুটিতে ট্রেন থামানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেল পুলিশ স্টেশন দুটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শ অনুযায়ী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে ক্রিকেট খেলছেন শ্রমিকরা
এর আগে গত রোববারও পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে কাজীপাড়া, মিরপুর-১০ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন দুই ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ডিএমটিসিএল এ ধরনের ব্যবস্থাকে ‘স্টেশন স্কিপ’ বলে উল্লেখ করে। এর অর্থ, মেট্রোরেল নির্ধারিত রুটে চলাচল করবে, তবে নিরাপত্তার কারণে নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে থামবে না।
বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ স্টেশন এড়িয়ে ট্রেন চলাচল করছে।
তাই এসব এলাকায় যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের বিকল্প স্টেশন ব্যবহার করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্টেশন দুটিতে ট্রেন থামার বিষয়টি অনিশ্চিত রয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের দুটি স্টেশনে ট্রেন থামা বন্ধ হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তিও বেড়েছে।



