আন্তর্জাতিক

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে লং মার্চ, সমর্থকদের থামতে বললেন শেহবাজ

ইমরান খানের সমর্থকদের চলমান লং মার্চ বন্ধ করে সরকারের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে এই পদযাত্রা শুরু করেছেন তাঁর সমর্থকেরা।

মঙ্গলবার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতাদের উদ্দেশে শেহবাজ শরিফ বলেন, লং মার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলে সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, “আমি প্রত্যাশা করছি, তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। আপনার লং মার্চ এবং অবস্থান ধর্মঘট শেষ করুন। এসব বন্ধ করলেই আমরা নিশ্চিতভাবে আপনাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করব।”

উত্তেজনা কমাতে সরকারের সঙ্গে পিটিআইয়ের কয়েক দফা আলোচনা হলেও তা কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি। এর পর ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে গত রোববার নতুন করে লং মার্চ শুরু করেন তাঁর সমর্থকেরা।

বিক্ষোভের কারণে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন শেহবাজ। তিনি বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করা “রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শত্রুতার সামিল”।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনোভাবেই এমনটি হতে দেব না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব এবং যেকোনো মূল্যে আমরা তা নিশ্চিত করব।”

লং মার্চের অংশগ্রহণকারীরা যাতে ইসলামাবাদে ঢুকতে না পারেন, সে জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ। প্রথমে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই পদযাত্রা শুরুর পরিকল্পনা ছিল। পরে কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করে গত রোববার থেকে তা শুরু করা হয়।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিকের বরাতে জানা গেছে, গত সোমবার ইমরান খানের সমর্থনে হাজার হাজার মানুষকে পিটিআই শাসিত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট জেলায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

পাকিস্তানের জনপ্রিয় সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। ওই বছরের মে মাসে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী সহিংসতার পর তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং সহিংসতায় উসকানিসহ একাধিক মামলা করা হয়।

তবে ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তাঁর আইনজীবীরা। তাঁদের ভাষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব মামলার মূল লক্ষ্য ইমরান খানের ব্যাপক রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button