অন্য খবর

যে ৫ খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করার আগে সতর্ক হবেন

দ্রুত খাবার গরম করা কিংবা অল্প সময়ে রান্নার কাজ সেরে নিতে মাইক্রোওয়েভ ওভেন বেশ সুবিধাজনক। তবে সব ধরনের খাবার এতে গরম বা রান্না করা সমান নিরাপদ নয়। কিছু খাবারের স্বাদ ও গঠন এতে বদলে যেতে পারে। আবার নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে খাবার ঠিকভাবে গরম না হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের সময় কয়েকটি খাবারের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ব্রকলি

ব্রকলি দ্রুত গরম করার জন্য মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করা সহজ মনে হতে পারে। তবে রান্নার পদ্ধতি ও সময়ের ওপর নির্ভর করে এতে থাকা কিছু পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমতে পারে। ব্রকলি ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ একটি সবজি। অতিরিক্ত তাপ বা দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করলে এর কিছু তাপসংবেদনশীল পুষ্টি উপাদান নষ্ট হতে পারে।

ব্রকলির পুষ্টিগুণ যতটা সম্ভব ধরে রাখতে অল্প পানি দিয়ে ভাপে রান্না করা ভালো বিকল্প হতে পারে। অল্প সময় সেদ্ধ করেও এটি খাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু মাইক্রোওয়েভে রান্না করলেই ব্রকলির সব পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়, এমন নয়। রান্নার সময় ও পদ্ধতিই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম

মাইক্রোওয়েভে খোসাসহ আস্ত ডিম গরম করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাপের কারণে ডিমের ভেতরে বাষ্প ও চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে গরম করার সময় বা মাইক্রোওয়েভ থেকে বের করার পরও ডিম ফেটে যেতে পারে, এমনকি বিস্ফোরিত হয়ে গরম অংশ ছিটকে পড়তে পারে। এতে পোড়ার আশঙ্কাও থাকে।

ডিম রান্নার জন্য চুলায় সেদ্ধ করা একটি সহজ পদ্ধতি। চাইলে চুলায় পোচ করেও খাওয়া যায়। এতে ডিমের নরম গঠন ও স্বাদ বজায় রাখা সম্ভব। মাইক্রোওয়েভে ডিম রান্না করতে হলে খোসা ছাড়ানোসহ উপযুক্ত পাত্র ও পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে এবং ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ ভালোভাবে রান্না হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভাত

আগের দিনের ভাত মাইক্রোওয়েভে গরম করে খাওয়ার আগে এর সংরক্ষণপদ্ধতির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। রান্না করা ভাতে ব্যাসিলাস সেরিয়াস নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। ভাত রান্নার পর দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় পড়ে থাকলে এসব স্পোর থেকে ব্যাকটেরিয়া বেড়ে উঠতে পারে এবং খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বিষাক্ত পদার্থ পরে গরম করলেও নষ্ট নাও হতে পারে।

তাই শুধু মাইক্রোওয়েভে গরম করলেই দীর্ঘ সময় বাইরে পড়ে থাকা ভাত নিরাপদ হয়ে যায় না। ভাত রান্নার পর দ্রুত ঠান্ডা করে অল্প সময়ের মধ্যে ফ্রিজে রাখতে হবে। পরে খাওয়ার আগে ভাতের সব অংশ ভালোভাবে গরম করতে হবে। চুলায় সামান্য পানি দিয়ে নেড়ে গরম করলে ভাত শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে এবং তা সমানভাবে গরম করা সহজ হয়। তবে খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আলু

আলু মাইক্রোওয়েভে গরম বা রান্না করার সময়ও সতর্ক থাকা দরকার, বিশেষ করে আলু অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়িয়ে রাখা হলে। ফয়েল মাইক্রোওয়েভে ব্যবহার করলে আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে। তাই মাইক্রোওয়েভে ফয়েল ব্যবহার করা উচিত নয়, যদি না যন্ত্রটির নির্দেশিকায় নির্দিষ্টভাবে অনুমতি দেওয়া থাকে।

রান্না করা আলু দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে, বিশেষ করে ফয়েলে মোড়ানো অবস্থায়, ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম নামের ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি বিষাক্ত পদার্থ গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। এ কারণে আলু রান্নার পর দ্রুত ফয়েল খুলে ফেলতে হবে এবং নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

আলু ভালোভাবে রান্না করতে চাইলে প্রচলিত ওভেনে বেক করা যেতে পারে। এতে ভেতরটা নরম এবং খোসা মুচমুচে হয়। দ্রুত কিছু তৈরি করতে চাইলে আলু পাতলা করে কেটে প্যানে ভেজেও পরিবেশন করা যায়। তবে যে পদ্ধতিতেই রান্না করা হোক, রান্নার পর সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।

মুরগির মাংস

কাঁচা মুরগির মাংস মাইক্রোওয়েভে রান্না করলে সব অংশে সমানভাবে তাপ পৌঁছাতে নাও পারে। ফলে কোনো অংশ ভালোভাবে রান্না হলেও অন্য অংশ কাঁচা থেকে যেতে পারে। এতে সালমোনেলাসহ খাদ্যবাহিত রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকার আশঙ্কা থাকে।

মুরগির মাংস নিরাপদভাবে রান্না করতে বেকিং, গ্রিলিং কিংবা চুলায় ভালোভাবে রান্নার পদ্ধতি বেছে নেওয়া যায়। দ্রুত রান্না করতে চাইলে মাংস পাতলা করে কেটে সবজির সঙ্গে প্যানে রান্না করা যেতে পারে। এতে মাংস তুলনামূলক দ্রুত রান্না হয় এবং স্বাদ ও গঠনও ভালো থাকে।

মাইক্রোওয়েভে মুরগির মাংস রান্না করা একেবারেই নিষিদ্ধ নয়। তবে এতে রান্না করলে উপযুক্ত পাত্র ব্যবহার করতে হবে, মাঝেমধ্যে মাংসের অবস্থান বদলাতে হবে এবং সব অংশ পুরোপুরি রান্না হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো খাদ্য-থার্মোমিটার দিয়ে মাংসের ভেতরের তাপমাত্রা মাপা। মুরগির মাংসের সবচেয়ে মোটা অংশে তাপমাত্রা অন্তত ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়া প্রয়োজন।

মাইক্রোওয়েভ দ্রুত খাবার গরম করার সুবিধা দিলেও এর ব্যবহারবিধি মেনে চলা জরুরি। খাবারের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত পাত্র ও রান্নার পদ্ধতি বেছে নেওয়ার পাশাপাশি রান্না করা খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। এতে খাবারের স্বাদ ও গুণাগুণ বজায় রাখার পাশাপাশি খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button