
প্রথমবার কারও সঙ্গে ডেটে যাওয়ার কথা ভাবলেই অনেকের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি বা উদ্বেগ কাজ করে। নতুন মানুষটির সামনে নিজের সম্পর্কে কতটা বলা উচিত, কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া ভালো, তা নিয়েও দ্বিধায় পড়েন অনেকে। নিজের জীবন, পছন্দ কিংবা অতীতের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার সময় অপর প্রান্তের মানুষটি কী ভাবছেন, এমন চিন্তাও মাথায় আসতে পারে। ফলে সাধারণ কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত তথ্য জানিয়ে ফেলেন কেউ কেউ।
তবে প্রথম ডেটকে চাকরির সাক্ষাৎকারের মতো করে দেখার প্রয়োজন নেই। নিজের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়া কিংবা অন্যের কাছে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করারও দরকার নেই। বরং স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, নিজের ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখা এবং অপরিচিত মানুষটিকে জানার জন্য সময় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ডেটে নিজের সম্পর্কে কথা বলার ক্ষেত্রে যে চারটি বিষয় মাথায় রাখতে পারেন, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
১. এখনো সিঙ্গেল কেন?
প্রথম ডেটে কেউ যদি জানতে চান, আপনি এখনো সম্পর্কে জড়াননি কেন, তাহলে নিজের অতীতের সম্পর্কের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে, এমন নয়। এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অনেকে আগের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণ, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কিংবা জীবনের নানা ঘটনা খুলে বলতে শুরু করেন।
কিন্তু প্রথমবার দেখা হওয়া মানেই যে সম্পর্কটি ভবিষ্যতে গভীর হবে, তা নিশ্চিত নয়। তাই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার আগে অপর ব্যক্তির সঙ্গে কতটা স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন, তা বিবেচনা করুন। চাইলে সংক্ষেপে উত্তর দিয়ে অন্য প্রসঙ্গে যেতে পারেন। সম্পর্কের মধ্যে আস্থা ও স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হলে পরে অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ থাকবে।
২. ব্যক্তিগত তথ্য কতটা জানাবেন?
প্রথম ডেটেই নিজের সব ব্যক্তিগত তথ্য জানিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি মদ্যপান করেন কি না, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন, আপনার আয় কত, এসব বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিন।
কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বস্তি হলে তা এড়িয়ে যাওয়া বা পরে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেওয়া আপনার অধিকার। এ ক্ষেত্রে বলতে পারেন, ‘আমি এখনই এ বিষয়ে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ নই।’ এতে নিজের সীমারেখা স্পষ্ট করা যায়, আবার অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়ার চাপও থাকে না।
কোন তথ্য কখন শেয়ার করবেন, তা আপনার নিজের সিদ্ধান্ত। পরিচিতি যত বাড়বে এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি হবে, ততই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলা সহজ হতে পারে।
৩. ক্যারিয়ার নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেবেন না
ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অনেকে নিজের বর্তমান অবস্থান নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েন। কেউ হয়তো এখনো পছন্দের চাকরি পাননি, কেউ একাধিকবার পেশা বদলেছেন, আবার কেউ নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নন। এসব কারণে নিজেকে অন্যের তুলনায় কম যোগ্য ভাবার প্রয়োজন নেই।
প্রথম ডেটে অপর ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে নিজের পেশাগত জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে হবে না। আপনি কী করছেন, ভবিষ্যতে কী করতে চান, সে বিষয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন। তবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া বা নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অযথা আত্মপক্ষসমর্থন করার দরকার নেই।
কেউ যদি বারবার এমন প্রশ্ন করেন, যাতে আপনি নিজেকে ছোট বা বিব্রত বোধ করেন, তাহলে কথোপকথনের ধরনটি খেয়াল করুন। পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া একটি সুস্থ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৪. বার্তার উত্তর দিতে দেরি হওয়ার কারণ
কাজের ব্যস্ততা, ফোনের বার্তা চোখে না পড়া কিংবা উত্তর দিতে ভুলে যাওয়া, নানা কারণেই বার্তার জবাব দিতে দেরি হতে পারে। কিন্তু পরিচয়ের শুরুতেই যদি অপর ব্যক্তি আপনার প্রতিটি পদক্ষেপের হিসাব চাইতে থাকেন, তাহলে বিষয়টি লক্ষ করা জরুরি।
কোনো বার্তার উত্তর দিতে দেরি হলেই দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেওয়া বা বারবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার বাধ্যবাধকতা নেই। সম্পর্কের শুরুতে একজন অন্যজনের ব্যক্তিগত সময় ও স্বাধীনতাকে সম্মান করছেন কি না, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন।
অতিরিক্ত অধিকারবোধ বা নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা সম্পর্কের মধ্যে চাপ তৈরি করতে পারে। একজন আরেকজনের সময়, যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান না করলে ভবিষ্যতে সম্পর্ক দমবন্ধ করা হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রথম থেকেই নিজের সীমারেখা স্পষ্ট রাখা এবং অপর ব্যক্তির আচরণ পর্যবেক্ষণ করা ভালো।
প্রথম ডেটে স্বাভাবিক থাকুন
প্রথম দেখায় একজন আরেকজন সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি করেন, তা পরবর্তী পরিচয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রথম দেখার ধারণাই যে চিরস্থায়ী হবে, এমন নয়। সময়ের সঙ্গে মানুষের আচরণ, চিন্তাভাবনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি হয়।
তাই প্রথম ডেটে নিজেকে অন্যের পছন্দমতো করে উপস্থাপন করার চাপ নেবেন না। নিজের সম্পর্কে যতটুকু বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, ততটুকুই বলুন। একই সঙ্গে অপর ব্যক্তির কথা মন দিয়ে শুনুন এবং তাঁর আচরণে সম্মানবোধ ও আন্তরিকতা আছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করুন।
সম্পর্কের শুরুতেই সব কথা বলে ফেলতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। তাড়াহুড়া না করে একে অপরকে জানার সুযোগ দিন। পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্যের ভিত্তিতে সম্পর্ককে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেওয়াই ভালো।



