
চা অনেকেরই পছন্দের পানীয়। স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে কেউ কেউ চায়ের সঙ্গে আদা ও লবঙ্গ মেশান। এই দুই মসলার নিজস্ব কিছু উপকারী গুণ রয়েছে। আদা বমি বমি ভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে, লবঙ্গে আছে প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত কিছু যৌগ। অন্যদিকে, চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস। সব মিলিয়ে আদা ও লবঙ্গ দিয়ে তৈরি এক কাপ চা স্বাদে ভিন্ন হওয়ার পাশাপাশি কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধাও দিতে পারে।
আদার ঝাঁঝালো স্বাদ, লবঙ্গের সুগন্ধ আর চায়ের উষ্ণতা অনেকের কাছে আরামদায়ক। তবে এই পানীয়ের উপকারিতা নিয়ে অতিরঞ্জিত ধারণা রাখা ঠিক নয়। এটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে, কিন্তু কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে
লবঙ্গে ইউজেনল নামের একটি যৌগ রয়েছে, যার জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করার এবং প্রদাহ কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। আদাতেও রয়েছে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
চা, আদা ও লবঙ্গ একসঙ্গে মিশিয়ে পান করলে এসব উপাদানের কিছু অংশ খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। উষ্ণ এই পানীয় আরাম দিতে পারে। তবে এটি নিয়মিত পান করলেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে কিংবা সর্দি-কাশি ঠেকানো যাবে, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
হজমে সহায়তা করতে পারে
আদা বমি বমি ভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি পেটের অস্বস্তি ও হজমজনিত সমস্যাও কমাতে পারে। লবঙ্গের কিছু উপাদানের হজমপ্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে মানুষের ওপর পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
খাবারের পর অল্প পরিমাণ আদা ও লবঙ্গ দিয়ে তৈরি চা পান করলে কারও কারও আরাম লাগতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে এর প্রভাব এক রকম হবে না। যাঁদের পেট সংবেদনশীল, তাঁদের চায়ের পরিমাণ ও উপাদানের মাত্রার দিকে খেয়াল রাখা উচিত।
প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে
আদা ও লবঙ্গে এমন কিছু যৌগ রয়েছে, যেগুলোর প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। আদার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি গবেষণা রয়েছে। লবঙ্গের ইউজেনলও প্রদাহ কমানোর সম্ভাব্য উপাদান হিসেবে পরিচিত।
তবে এসব উপাদানের গবেষণালব্ধ বৈশিষ্ট্য থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে আদা-লবঙ্গের চা পান করলেই গাঁটের ব্যথা বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমে যাবে। এ ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এই চাকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস
শরীরে স্বাভাবিক বিপাকপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীল অণু কোষের ক্ষতি করতে পারে। এ ধরনের ক্ষতি কমাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভূমিকা রাখে। লবঙ্গে ফেনোলিক যৌগ রয়েছে, আদাতেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত উপাদান পাওয়া যায়। চাও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি উৎস।
তাই আদা ও লবঙ্গ দিয়ে তৈরি চা খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ পানীয় হিসেবে জায়গা পেতে পারে। তবে এটি নিয়মিত পান করলে ত্বক তরুণ থাকবে বা শরীরের প্রাণশক্তি নিশ্চিতভাবে বাড়বে, এমন দাবি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ত্বক ও সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চাও গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক চাপ কমাতে আরাম দিতে পারে
এক কাপ উষ্ণ চা পান করা অনেকের জন্যই স্বস্তিদায়ক অভ্যাস। আদার ঝাঁঝালো স্বাদ ও লবঙ্গের সুগন্ধ পানীয়টিকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে পারে। ব্যস্ততার মধ্যে কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে চা পান করলে মানসিকভাবে প্রশান্তি অনুভব করতে পারেন কেউ কেউ।
তবে লবঙ্গের সুগন্ধ বা আদা-লবঙ্গের চা সরাসরি উদ্বেগ দূর করে কিংবা মানসিক চাপের চিকিৎসা করে, এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মানসিক চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্রাম, নিয়মিত শরীরচর্চা, কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উপকারী হতে পারে।
আদা ও লবঙ্গ দিয়ে চা পান করতে চাইলে পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন। চায়ে বেশি চিনি না দেওয়াই ভালো। যাঁদের কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে বা যাঁরা নিয়মিত ওষুধ খান, তাঁদের নিয়মিত বেশি পরিমাণে আদা বা লবঙ্গ গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



