
সন্ধ্যায় অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগার পেছনে যেসব কারণ থাকতে পারে, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
১. দুপুরের খাবার বাদ দেওয়া বা সুষম খাবার না খাওয়া
দুপুরের খাবার বাদ দিলে কিংবা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার না খেলে সন্ধ্যায় তীব্র ক্ষুধা লাগতে পারে। দুপুরের খাবারে প্রোটিন, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বির পর্যাপ্ত উপস্থিতি থাকা জরুরি। এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা নাও থাকতে পারে। ফলে সন্ধ্যার দিকে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়।
২. খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি
দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে দ্রুত ক্ষুধা লাগতে পারে। বিশেষ করে শর্করাজাতীয় খাবারের ওপর বেশি নির্ভর করলে কিছু ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার খাওয়ার প্রয়োজন অনুভূত হতে পারে।
এ সমস্যা এড়াতে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী খাবারের তালিকায় ডাল, দই, পনির, টোফু, ডিম, মাছ, মুরগির মাংস কিংবা মসুর ডালের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে।
৩. দুই বেলার খাবারের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি
সারাদিনের খাবারের সময়সূচিতে দীর্ঘ বিরতি থাকলেও সন্ধ্যায় ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে। এতে শুধু খাবার খাওয়ার প্রয়োজনই বাড়ে না, সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবারের প্রতিও আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে।
রাতের খাবার খেতে দেরি হলে মাঝের সময়ে স্বাস্থ্যকর হালকা খাবার খাওয়া যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ে রাতের খাবার খেতে বসার প্রবণতা কমাতে সহায়তা হতে পারে।
৪. দিনের বেলায় প্রয়োজনের তুলনায় কম খাওয়া
ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে দিনের বেলায় খুব কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া কিংবা খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করার অভ্যাস সন্ধ্যায় ক্ষুধা বাড়িয়ে দিতে পারে। দিনের বেলায় শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার না পেলে পরে বেশি খেতে ইচ্ছা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
তাই পুষ্টি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শুধু খাবারের পরিমাণ কমানোর দিকে নজর না দিয়ে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ও সুষম খাবার গ্রহণ করাও জরুরি।
৫. তৃষ্ণা, মানসিক চাপ ও একঘেয়েমিকে ক্ষুধা মনে করা
সব সময় প্রকৃত ক্ষুধার কারণে খাওয়ার ইচ্ছা হয় না। কখনো তৃষ্ণা, মানসিক চাপ কিংবা ক্লান্তি থেকেও খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। আবার টেলিভিশন দেখার সময় অভ্যাসবশত হালকা খাবার খাওয়ার কারণেও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া হয়ে যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ থেমে নিজের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। সত্যিই ক্ষুধা লেগেছে, নাকি তৃষ্ণা, মানসিক চাপ কিংবা একঘেয়েমি থেকে খেতে ইচ্ছা করছে, তা খেয়াল করা যেতে পারে।
সন্ধ্যায় ক্ষুধা লাগলে কী খাবেন?
সন্ধ্যায় ক্ষুধা লাগলে হালকা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন নেই। বরং কী খাচ্ছেন এবং কতটা খাচ্ছেন, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভর না করে পুষ্টিকর বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে বাদামের সঙ্গে ফল, ভাজা ছোলা, মাখানা, দই কিংবা সবজির স্যান্ডউইচ ভালো বিকল্প হতে পারে। পাশাপাশি দিনের বেলায় নিয়মিত ও সুষম খাবার খাওয়া এবং শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। এতে সন্ধ্যায় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা হতে পারে।



