ধর্ম

অন্যের জমি জোর করে দখল করলে ইসলামে কী শাস্তি?

অন্যের জমি জোর করে দখল করে ভোগ করা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। জমির পরিমাণ যত কমই হোক, প্রকৃত মালিকের অধিকার কেড়ে নিয়ে তা নিজের দখলে রাখার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, দুনিয়ায় ক্ষমতা বা প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি দখলে রাখা সম্ভব হলেও পরকালে এ অন্যায়ের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। জমি ফিরিয়ে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত না করে শুধু মুখে তওবা করলেই এ দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, অন্যের জমি অন্যায়ভাবে দখল করে ভোগ করার বিষয়ে ইসলামে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি রয়েছে। হাদিসে এ ধরনের অপরাধের জন্য পরকালে ভয়াবহ পরিণতির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, দুনিয়ায় অন্যের জমি দখল করে ভোগ করলেও আখিরাতে এর জবাবদিহি করতে হবে।

অন্যের জমি দখলের পরিণতি সম্পর্কে সহিহ হাদিসে স্পষ্ট সতর্কবার্তা রয়েছে। হজরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত পরিমাণ জমিও দখল করবে, কিয়ামতের দিন সাত স্তর জমিন তার গলায় বেড়ি হিসেবে পরানো হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৫২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬১০)।

এই হাদিসে জমি দখলের অপরাধকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। জমির পরিমাণ সামান্য হলেও অন্যায়ভাবে তা আত্মসাৎ করা গুরুতর অপরাধ। জোর-জবরদস্তি, ভয়ভীতি কিংবা প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি দখল করে রাখলেও সেই কাজ বৈধ হয়ে যায় না।

পবিত্র কোরআনেও অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভোগ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৮)।

এই আয়াতের শিক্ষা হলো, অন্যের সম্পদ বা অধিকার অন্যায় উপায়ে নিজের দখলে নেওয়া যাবে না। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে জমি দখল করা কোনো বৈধ সমাধান নয়। এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে জমির দলিল, মালিকানার প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করে।

ইসলামে মানুষের অধিকার বা বান্দার হক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অন্যের জমি অন্যায়ভাবে দখল করে থাকলে প্রথমেই সেই দখল ছেড়ে দিয়ে প্রকৃত মালিককে তাঁর জমির অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। দখলের কারণে জমির কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে তার প্রতিকারও করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা অন্য পাওনা পরিশোধের প্রয়োজন হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়। যার অধিকার নষ্ট করা হয়েছে, তাঁর অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার সঙ্গে মানুষের হক জড়িত। তাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পাওনা বুঝিয়ে দেওয়াও জরুরি।

অনেক সময় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা শক্তিশালী পক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠলেও ভুক্তভোগীরা প্রতিকার পেতে সমস্যায় পড়েন। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষমতা, অর্থ কিংবা সামাজিক প্রভাব কাউকে অন্যের অধিকার নষ্ট করার অনুমতি দেয় না। দীর্ঘদিন অন্যের জমি দখলে রেখে ভোগ করলেও তা বৈধ মালিকানার বিকল্প হতে পারে না।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button