
সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনছেন অনেকেই। প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টির পরিমাণ বাড়াতে কেউ কেউ যোগ করছেন বিভিন্ন ধরনের বীজ। চিয়া, তিসি, তিল, কুমড়া ও তুলসি বীজ পুষ্টি উপাদানের উৎস হিসেবে পরিচিত। তবে শুধু খাদ্যতালিকায় এসব বীজ রাখলেই হবে না, কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে প্রস্তুত করে খেলে দৈনন্দিন খাবারে এসব বীজ যুক্ত করা সহজ হয়।
চিয়া বীজ
চিয়া বীজে রয়েছে খাদ্য আঁশ, প্রোটিন ও উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। খাওয়ার আগে বীজগুলো পানিতে ভিজিয়ে নরম করে নেওয়া যায়। এরপর দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে খাবারে পুষ্টি যোগ হবে। দইয়ে থাকা উপকারী জীবাণু অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চিয়া বীজের সঙ্গে দই মিশিয়ে খেলেই এসব জীবাণুর কার্যকারিতা বাড়ে বা সব পুষ্টি পুরোপুরি শরীরে শোষিত হয়, এমন দাবি নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
তিসি বীজ
তিসি বীজে খাদ্য আঁশ ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। বীজগুলো হালকা ভেজে গুঁড়া করে খাওয়া যায়। চাইলে এর সঙ্গে মৌরি মিশিয়ে মুখশুদ্ধি হিসেবেও খেতে পারেন। তবে এই মিশ্রণ পেট ফাঁপা কমায়, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। তিসি বীজ গুঁড়া করে খেলে এর পুষ্টি উপাদান শরীরে গ্রহণ করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
তিল
তিল ক্যালসিয়ামের একটি উৎস। রুটি তৈরির সময় আটার সঙ্গে গুঁড়া করা তিল মিশিয়ে নেওয়া যায়। এতে খাবারের পুষ্টিমান বাড়তে পারে। তবে তিলে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ থাকলেও শরীর কতটা ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারবে, তা তিলের ধরন ও অন্যান্য খাদ্যগত বিষয়ের ওপরও নির্ভর করে।
কুমড়ার বীজ
কুমড়ার বীজে ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। বীজগুলো হালকা ভেজে তাজা ফলের ওপর ছড়িয়ে খেতে পারেন। ফলের সঙ্গে কুমড়ার বীজ খেলে খাবারে বাড়তি পুষ্টি যোগ হয়। চাইলে সালাদ বা দইয়ের সঙ্গেও এটি খাওয়া যায়।
তুলসি বীজ
তুলসি বীজে খাদ্য আঁশ রয়েছে। পানিতে ভিজিয়ে বীজগুলো ফুলে উঠলে ডাবের পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। খাদ্য আঁশ মল নরম রাখতে ও নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে। তবে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে তুলসি বীজ ও ডাবের পানির মিশ্রণ কতটা কার্যকর, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বীজগুলো শুকনো অবস্থায় না খেয়ে ভালোভাবে ভিজিয়ে নেওয়া উচিত।
চিয়া, তিসি, তিল, কুমড়া ও তুলসি বীজ পরিমিত পরিমাণে দৈনন্দিন খাবারে যোগ করলে পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তবে কোনো একটি বীজই সুষম খাদ্যের বিকল্প নয়। পর্যাপ্ত পানি পান, বৈচিত্র্যময় খাবার গ্রহণ এবং খাদ্য আঁশ ধীরে ধীরে বাড়ানোর দিকেও নজর রাখা জরুরি। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



