অন্য খবর

সব সময় মেজাজ খিটখিটে থাকে কেন?

সামান্য বিষয়েই মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে? আশপাশের মানুষের কথা বা আচরণে সহজেই বিরক্ত বোধ করছেন? এমনটা মাঝেমধ্যে হলে উদ্বেগের কারণ নাও থাকতে পারে। তবে নিয়মিত এমন অনুভূতি হলে তা দৈনন্দিন জীবন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কর্মক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

খিটখিটে মেজাজের পেছনে ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত কাজ কিংবা জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস ভূমিকা রাখতে পারে। আবার কখনো শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে। তাই বারবার বিরক্ত বোধ করার কারণ বোঝা জরুরি।

১. পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া

ঘুমের ঘাটতি হলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে আবেগ নিয়ন্ত্রণ, মনোযোগ ধরে রাখা এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতাও ব্যাহত হতে পারে। ফলে সামান্য বিষয়েও বিরক্তি বা হতাশা তৈরি হতে পারে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ও ভালো মানের ঘুম না হলে এ সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

২. দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ

কাজের চাপ, আর্থিক দুশ্চিন্তা, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে চাপের মধ্যে থাকলে মন ও শরীর স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ কম পায়। তখন ছোটখাটো সমস্যাও বড় বলে মনে হতে পারে এবং মেজাজ দ্রুত খারাপ হয়ে যেতে পারে।

৩. একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব সামলানো

একসঙ্গে অনেক কাজ করা, বারবার সিদ্ধান্ত নেওয়া, নিয়মিত বার্তা বা ফোনের উত্তর দেওয়া এবং নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় নতুন কোনো কাজ বা সাধারণ অনুরোধও বিরক্তিকর মনে হতে পারে। কাজের চাপের পাশাপাশি বিশ্রামের অভাব এ অনুভূতি বাড়িয়ে দিতে পারে।

৪. অতিরিক্ত সময় পর্দায় কাটানো

দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, খবর কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল বিষয়বস্তু দেখতে থাকলে মন একের পর এক তথ্য ও উদ্দীপনার মধ্যে থাকে। ঘন ঘন বিজ্ঞপ্তি, বার্তা ও কাজের বাধা মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। এতে মানসিক বিশ্রামের সুযোগ কমে যায় এবং কারও কারও ক্ষেত্রে অস্থিরতা বা বিরক্তি বাড়তে পারে। তবে পর্দায় সময় কাটানোই সব ক্ষেত্রে খিটখিটে মেজাজের একমাত্র কারণ নয়।

৫. দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা পুষ্টির ঘাটতি

অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে কারও কারও ক্ষুধা, ক্লান্তি, দুর্বলতা ও বিরক্তি অনুভূত হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে। অনিয়মিত খাবার খাওয়া এবং সুষম খাদ্যের অভাবও শরীরের শক্তি ও সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা উপকারী। তবে বারবার দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক বিরক্তির সঙ্গে কাঁপুনি, ঘাম কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৬. শারীরিক পরিশ্রম ও চলাফেরার অভাব

নিয়মিত হাঁটাচলা ও শারীরিক কার্যকলাপ মেজাজ ভালো রাখতে এবং মানসিক চাপ সামলাতে সহায়তা করে। দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং শরীরচর্চার অভাব কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্লান্তি ও অস্থিরতার অনুভূতি বাড়াতে পারে। প্রতিদিনের রুটিনে হাঁটা, হালকা ব্যায়াম কিংবা পছন্দের কোনো শারীরিক কার্যকলাপ যোগ করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

৭. বিশ্রাম ও নিজের জন্য সময় না রাখা

কাজ, পরিবারের দায়িত্ব কিংবা অন্যদের দেখাশোনা করতে গিয়ে অনেকেই নিজের জন্য সময় বের করতে পারেন না। এর সঙ্গে যদি সারাক্ষণ ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত থাকার অভ্যাস থাকে, তাহলে মানসিকভাবে স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ আরও কমে যায়। বিরতি ছাড়া একটানা কাজ করতে থাকলে ক্লান্তি জমতে পারে। ফলে ধৈর্য কমে যাওয়া এবং সামান্য বিষয়েও বিরক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নেওয়া, পছন্দের কাজে সময় দেওয়া এবং প্রয়োজনমতো অন্যদের সহযোগিতা চাওয়া মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?

খিটখিটে মেজাজ সব সময় জীবনযাপনের অভ্যাসের কারণে হয় না। দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ, বিষণ্নতা, কিছু শারীরিক অসুস্থতা কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এর পেছনে থাকতে পারে। বিরক্তি যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, দৈনন্দিন কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে কিংবা এর সঙ্গে ঘুম, ক্ষুধা ও আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার, শারীরিক সক্রিয়তা এবং কাজের পাশাপাশি বিশ্রামের সময় রাখা মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে বিরক্তির কারণ ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু অভ্যাস পরিবর্তনের ওপর নির্ভর না করে এর পেছনের কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button