
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রঝড়, আকস্মিক বন্যা ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিরূপ আবহাওয়া তৈরি হতে পারে। আগামী শনিবার পর্যন্ত কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অতিভারী বৃষ্টিপাতের এলাকায় টর্নেডো ও জলস্তম্ভ সৃষ্টির আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম) জানিয়েছে, দেশটির অধিকাংশ অঞ্চলে হালকা থেকে ভারী বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর সঙ্গে দমকা হাওয়া, ধূলিঝড়, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাজান, আসির, আল বাহা ও মক্কা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া মদিনা, তাবুক, আল জউফ, নর্দার্ন বর্ডারস, হাইল, নাজরান এবং রিয়াদের দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
মক্কা ও তায়েফের পাশাপাশি আল জুমুম, বাহরা, মাইসান, আধাম ও আল আরদিয়াত এলাকায় শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জেদ্দা, রাবিঘ ও খুলাইস এলাকায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টি হতে পারে। আল লিথ ও আল কুনফুদাহ অঞ্চলেও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
এনসিএমের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বজ্রঝড়ের সময় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এতে ধুলাবালির কারণে সড়কে দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। পাশাপাশি আকস্মিক বন্যা, শিলাবৃষ্টি এবং উপকূলীয় এলাকায় বড় ঢেউ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। অতিবৃষ্টিপ্রবণ কিছু এলাকায় টর্নেডো কিংবা জলস্তম্ভ তৈরির ঝুঁকিও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক শিলাবৃষ্টির ঘটনা ঘটেছিল। এতে কোথাও কোথাও বিস্তীর্ণ এলাকা শিলায় ঢেকে যায়। এবারের পূর্বাভাসেও শিলাবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সৌদি আরবের কয়েকটি অঞ্চলে আগামী সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে সতর্কতা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রকাশ করা হবে।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবাসী বাংলাদেশি ও গাড়িচালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় উপত্যকা, নিচু এলাকা ও জলপ্রবাহের স্থান এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বন্যার পানিতে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ না করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে এনসিএমের ওয়েবসাইট, ‘আনওয়া’ অ্যাপ এবং সংস্থাটির যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



