
চুল মসৃণ, উজ্জ্বল ও মজবুত করতে চাল ধোয়া পানি বা রাইস ওয়াটার ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। ঘরেই সহজে তৈরি করা যায় বলে অনেকেই চুলের পরিচর্যায় এটি ব্যবহার করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চুল লম্বা ও ঘন করা এবং চুল পড়া কমানোর উপায় হিসেবে এর প্রচার দেখা যায়। তবে রাইস ওয়াটার ব্যবহারে সত্যিই চুলের বৃদ্ধি বাড়ে, নাকি এটি কেবল সৌন্দর্যচর্চার আরেকটি জনপ্রিয় প্রবণতা?
চাল ধোয়া পানি চুলের গঠন ও চেহারা কিছুটা ভালো করতে পারে। তবে এটি নতুন চুল গজাতে বা চুল পড়া বন্ধ করতে পারে, এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত।
রাইস ওয়াটার কী, চুলে কেন ব্যবহার করা হয়?
চাল ভিজিয়ে রাখা বা সেদ্ধ করার পর যে শ্বেতসারযুক্ত পানি পাওয়া যায়, সেটিই রাইস ওয়াটার। এতে অল্প পরিমাণে শর্করা, অ্যামাইনো অ্যাসিড ও খনিজ উপাদান থাকতে পারে। তবে কীভাবে চাল ধোয়া বা সেদ্ধ করা হচ্ছে, তার ওপর পানিটির উপাদান ও পরিমাণ নির্ভর করে।
রাইস ওয়াটারে ইনোসিটল নামের একটি উপাদানও থাকতে পারে। এটি একধরনের কার্বোহাইড্রেট। ক্ষতিগ্রস্ত চুলের ওপর এর সম্ভাব্য সুরক্ষামূলক প্রভাব নিয়ে গবেষণা হয়েছে। পরীক্ষাগারভিত্তিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ইনোসিটল চুলের সঙ্গে চুলের ঘর্ষণ কমাতে এবং চুল সামলানো সহজ করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাড়িতে তৈরি চাল ধোয়া পানি ব্যবহার করলে একই ধরনের উপকার পাওয়া যায় কি না, তা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসাবিষয়ক প্রমাণ নেই।
এশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চুলের পরিচর্যায় রাইস ওয়াটার ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। বর্তমানে এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ, এটি চুল লম্বা ও ঘন করতে পারে এবং চুল ভেঙে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে বলে প্রচার করা হয়।
রাইস ওয়াটার কি চুল দ্রুত বাড়ায়?
ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় রাইস ওয়াটারের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে চাল ধোয়া পানি সরাসরি চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় বা চুলের গোড়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে, এমন জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
চুলের বৃদ্ধি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে রয়েছে বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পুষ্টি, বয়স ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য। শরীরে আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা এবং মাথার ত্বকের নির্দিষ্ট কিছু রোগের কারণেও চুল পড়তে পারে।
রাইস ওয়াটার চুলকে মসৃণ ও সহজে আঁচড়ানোর উপযোগী করতে পারে। এতে আঁচড়ানোর সময় চুলের সঙ্গে চুলের ঘর্ষণ কমতে পারে এবং চুল ভাঙার ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে। ফলে চুলের দৈর্ঘ্য ধরে রাখা সহজ হতে পারে।
তবে চুল ভেঙে যাওয়া কমানো এবং চুলের গোড়া থেকে নতুন চুল গজানো এক বিষয় নয়। রাইস ওয়াটার ব্যবহারে চুলের দৈর্ঘ্য ধরে রাখতে সুবিধা হলেও তাতে চুল দ্রুত বাড়ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
যাঁদের চুল ক্রমাগত পাতলা হয়ে যাচ্ছে, অতিরিক্ত চুল পড়ছে বা মাথায় টাক দেখা দিচ্ছে, তাঁদের শুধু ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এ ধরনের সমস্যার কারণ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চুলে রাইস ওয়াটার ব্যবহারের নিয়ম
বাড়িতে সহজেই চাল ধোয়া পানি তৈরি করা যায়। এ জন্য প্রথমে দুই থেকে তিন টেবিল চামচ চাল ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর এক থেকে দুই কাপ পরিষ্কার পানিতে চাল ভিজিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। পরে পরিষ্কার পাত্রে পানি ছেঁকে নিতে হবে।
শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়ার পর এই পানি চুল ও মাথার ত্বকে লাগানো যায়। প্রায় পাঁচ থেকে ১০ মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। শুরুতে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করে চুলের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
রাইস ওয়াটার ব্যবহারের নির্দিষ্ট কোনো আদর্শ সময়সূচি বা মেয়াদ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই ব্যবহারের পর চুল শুষ্ক, রুক্ষ বা সামলানো কঠিন হয়ে গেলে এর ব্যবহার কমানো বা বন্ধ করা উচিত।
রাইস ওয়াটার তৈরি ও সংরক্ষণে সতর্কতা
চুলের পরিচর্যায় সদ্য তৈরি রাইস ওয়াটার ব্যবহার করাই ভালো। বাড়িতে তৈরি এই মিশ্রণ দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া উচিত নয়। এতে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে।
অব্যবহৃত পানি ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। এর গন্ধ, রং বা চেহারায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা আর ব্যবহার করা উচিত নয়।
রাইস ওয়াটারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে?
রাইস ওয়াটার সবার চুল ও মাথার ত্বকের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। এতে থাকা শ্বেতসার ও অন্যান্য উপাদান চুল বা মাথার ত্বকে আস্তরণ তৈরি করতে পারে। এর ফলে চুল আঠালো, শক্ত বা তৈলাক্ত মনে হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে।
যাঁদের আগে থেকেই মাথার ত্বকে কোনো সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ব্যবহারের পর চুলকানি, লালচে ভাব বা অন্য কোনো অস্বস্তি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় রাইস ওয়াটার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সাধারণ রাইস ওয়াটারের তুলনায় গাঁজানো রাইস ওয়াটারকে অনেক সময়



