
ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবারের এ হামলাকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেশটির মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা বৃহস্পতিবার বিকেলে হতাহতের এ সংখ্যা জানান। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের একজনের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
জেলেনস্কি জানান, হামলার সময় দিনিপ্রো রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি নিয়মিত লোকাল ট্রেন ও একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা প্রকাশিত ছবিতে প্ল্যাটফর্মে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। উদ্ধারকর্মীরা হতাহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আহতদের উদ্ধারে কাজ করেন। ছবিতে ট্রেন দুটির জানালার কাচ ভাঙা এবং সেগুলোর বিভিন্ন অংশ পুড়ে যাওয়া অবস্থায় দেখা যায়।
হামলার নিন্দা জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মস্কো এবং দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা উচিত হবে না। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য ইউক্রেনের মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ওলেশকিকে ঘিরে স্থানীয় যুদ্ধবিরতি
দিনিপ্রোতে হামলার মধ্যেই ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত ওলেশকি শহরকে কেন্দ্র করে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা শহরটির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুই দেশই জানিয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে এ যুদ্ধবিরতি তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেটস জানিয়েছেন, তিনি বেলারুশ ও রাশিয়া হয়ে একটি ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল নিয়ে ওলেশকির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।
দিনিপ্রোতে রাশিয়ার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ওলেশকিকে কেন্দ্র করে চলমান সীমিত যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
বেসামরিক মানুষ ও যাত্রীবাহী ট্রেনের উপস্থিতি থাকা একটি রেলস্টেশনে এ হামলা ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার দাবিও জোরালো হয়েছে।



